ইভ টিজিং (শেষ পর্ব)
লিখেছেন: নিঃস্ব বালক
বিভাগ: আমার কথা
তারিখ : Aug 01, 2010

পূর্ববতী পর্বগুলোতে অনেকে আমার সাথে একমত হতে পারেন নি । আমি ইভ টিজিং সম্পর্কে একটি সম্যক ধারনা প্রদানের লক্ষ্যে এ ব্লগটি লিখতে আরম্ভ করেছিলাম। অনেকেই হয়তো পুরোপুরি বুঝতে পারেন নি বিধায় কিছু কিছু প্রশ্ন করেছেন। আশা করি সম্পূর্ন ব্লগটি পড়লে তাদের প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন।
যদিও আমার বিষয়বস্তু ইভ টিজিং নিয়ে। তদপুরি আলোচনার কারণে কে বা কারা দায়ী সে কথা বার বার চলে আসছে । কেননা সরকার ও জনগণ কোন ভাবেই এটা প্রতিরোধ করতে পারছে না। প্রতিনিয়ত আন্দোলন, মানববন্ধন, সেমিনার হয়েই যাচ্ছে।আর এগুলোর মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে ছেলেরা ইভ টিজিং করতে পারবে না। করলে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই । ছেলেরা যেন ইভ টিজিং না করে সেজন্য সতেচন হতে বলা হচ্ছে। কিন্তু মেয়েদেরকে কিছুই বলা হচ্ছে না। তারা যেন চিরনিষ্পাপ!
মেয়ে মানুষ হচ্ছে ‘মধু’ এর মত একথা সকলের অবগত। আর ‘মধু’ এর চারপাশে ভ্রমর বা মৌমাছি সর্বদা লেগে থাকে। এটা মানষিক অসুস্থতা কিংবা দুশ্চরিত্রের পরিচয় বহন করে না। বরং মানব জাতির চিরায়ত অভ্যাস ও স্বভাবজাত চরিত্রের পরিচয় বহন করে। বয়ঃসন্ধিকাল পার হলেই একজন ছেলে যেমন একজন মেয়ের পরম সহচার্য কামনা করে তেমনি একজন মেয়েও একজন ছেলের চরম অনুপস্থিতি অনুভব করে। ছেলেদের প্রকাশ ক্ষমতা প্রবল বিধায় তারা আপন মনের মানুষকে খুজে ফেরে । কিন্ত মেয়েরা ছেলেদের মত প্রকাশ করতে পারেনা বিধায় নিজের প্রতি সবাইকে আকৃষ্ট করার জন্য বিভিন্ন রঙে ঢঙে সাজে। কিন্তু সে রঙ-ঢঙ যখন সাত-পাঁচ না ভেবে অস্বভাবিক মাত্রায় বেশি হয়ে যায় তখন বাধে বিপত্তি। ছেলেরা তাদের ফাদে আটকা পড়ার জন্য , কিংবা তাদের রঙ-ঢঙ এর প্রতি মন্তব্য করতে গিয়ে একটু বেশি বলে ফেলে।
যখন কোন মেয়েকে বলা হয়ে “আপু আপনাকে অনেক সুন্দর লাগছে বা আপনার চুলগুলো খুব সুন্দর কিংবা পোষাকটায় বেশ মানিয়েছে আপনাকে” তখন মেয়েরা বলে ‘ধন্যবাদ’। অবশ্য কিছু মেয়েরা নিশ্চুপ থাকে অথবা ভেংচি কেটে বিদায় ও হয়। এর বেশি কিছু করেনা । কেউ কখনো শুনেছেন কি যে সুন্দর একটা ছেলেকে কোন মেয়ে এমন মন্তব্য করেছে ? করেনি। অন্তত আমি এমন কিছু আজ পর্যন্ত শুনি নি।এর অর্থ দাঁড়াল ছেলেরা বলে কিন্তু মেয়রা বলে না। তারা শুনতে চায়। এমন কি ইভ টিজিং করলে মেয়েদের ভাব বেড়ে যায়। নিজেকে হয়তো ‘Sexiest of the world’ কিংবা ‘মহা সুন্দরী’ মনে করে।
ইভ টিজিং এর বিষয়ে যে যাই মন্তব্য করুন না কেন সবচেয়ে বড় সত্য কথা হচ্ছে এই অপকর্মটি সমাজ ও মানবতাবিরোধী নীতিগর্হিত। কোন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে হলে প্রথমেই খুঁজতে হয় যুদ্ধের কারণ কি, এর উৎস কোথায়। তা না হলে সে যুদ্ধের অবসান সম্ভব নয়। তাই ইভ টিজিং এর উৎস কোথায়, কেন হচ্ছে এটা, এর নেপথ্যের কারণগুলো কী কী এসকল প্রশ্নের উত্তর খুঁজে তার সমাধান করতে হবে। অন্যথায় কোনভাবেই ইভ টিজিং রোধ করা সম্ভব নয়। একটি উদাহরণ দিই। তাহলে সকলে বুঝতে পারবেন। বিদ্যুতের তারে যদি আগুন লাগে, আমরা কি সেখানে আগুন নেভাতে উদ্যত হই নাকি প্রথমে মেইন সুইচ বন্ধ করতে চেষ্টা করি? অবশ্যই মেইন সুইচ বন্ধ করার জন্য চেষ্টা করি যাতে অন্য লাইনে আগুন ভাইরাসের মত সংক্রমিত হতে না পারে। ইভ টিজিং প্রতিরোধের জন্য শুধুমাত্র ছেলেদের শাস্তি দিলে কখনোই এটা বন্ধ হবে না তা আমি পুর্বেই বলেছি। শাস্তি দিলেই যদি সব অপরাধ প্রতিরোধ করা সম্ভব হত তাহলে বাংলাদেশ থেকে অনেক পূর্বেই দুর্নীতি হারিয়ে যেত। বহু দিন জেলখানার অন্ন ভজনের পরেও দুর্নীতিকারীরা এটা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। বরং আর বেশি করে এটাকে আঁকড়ে ধরেছে। সরকার ও প্রশাসনও এটাকে বন্ধ করতে পারেনি। যারা শাস্তির মাধ্যমে ইভ টিজারদের প্রতিরোধের কথা বলেন; তাদের বলছি ...চরম কষ্টের শাস্তি দিলেও ইভ টিজিং প্রতিরোধ সম্ভব হবে না যতদিন না এর মূলোৎপাটন করা হবে। আর মূলোৎপাটন করতে হলে এর উৎস খুজে বের করতে হবে। তখন বেড়িয়ে পড়বে অত্যাধুনিক অভিভাবকগণের Hi society নামক অসচেতনতা, উন্মুক্ত সমাজ নামক বেশ্যাবৃত্তির প্রতিচ্ছবি। প্রমাণিত হবে ইভ টিজিং এর জন্য মেয়েরাই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ছেলেদের প্ররোচিত করে।
ইভ টিজিং প্রতিরোধে সর্বাগ্রে প্রয়োজন সচেতনতা। আর সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে যেমন প্রয়োজন রয়েছে নিয়মিত সভা, সেমিনার,র্যা লি, মানববন্ধন, প্রতিবাদ সভা; তেমনি প্রয়োজন রয়েছে মেয়েদের আপন সচেতনতা। তাদেরকে আমি চার দেয়ালের মাঝে পটের বিবি হয়ে বসে থাকতে বলছি না। বলছি এতটুকু সচেতনতার কথা যাতে তাদেরকে দেখে অনিচ্ছা সত্ত্বেও ছেলেরা টিজিং না করে। এতে কোন মেয়েকে যেমন বক্ষ বিসর্জন দিতে হবে না তেমনি কোন ছেলেকে সমাজের অন্ধকার গহ্বরে তলিয়ে যেতে হবে না। এর ফলে ইভ টিজিং পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। আর যারা ব্যতিক্রম তাদের কোন ভাবেই প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। তাদেরকে ধিক!

Mehedi Chayan
said:
OBONIL
said:
S.M. SIAM
said:
Mahdia Maisha
said:
কবি জাহিদ
said:
S.M. SIAM
said:
আমি টুনটুনি
said:
Mahdia Maisha
said:
Nure Alam Masud
said:
|
... আমি সাধারণত নগরবালকে ঢুকি না। তেমন একটা বুঝিও না ইন্টারফেস। কিন্তু এই লেখাটা দেখে পড়তে এলাম। আমি বলি কি, ইভ টিজিং বন্ধ করার জন্য সভা-সমাবেশ, ইত্যাদি করে লাভ নেই। এগুলো তো অনেক বছর ধরেই হচ্ছে, বন্ধ হয়েছে কি? আমাদের সমাজের সামগ্রিক পরিবেশ ইভ টিজিংকে উৎসাহিত করে। মিডিয়া এর বড় নিয়ামক। মিডিয়াতে যখন প্রচার করা হচ্ছে- "একটা বুরকা পরা মেয়ে পাগল করেছে" ইত্যাদি, তখন যেসব মেয়ে বোরকা পরে ইভ টিজিং সহ অন্যান্য খারাপ বিষয় থেকে নিজেদের রক্ষা করতে চাইত, তারাও আর রক্ষা পাচ্ছে না। টিভির নাটক-সিনেমাগুলোতে কি ইভ টিজিং দেখানো হয় না? এগুলো বন্ধ না করলে কীভাবে ইভ টিজিং বন্ধ হবে? একদিক দিয়ে যদি আগুনে জ্বালানি সাপ্লাই করা হয়, আরেকদিক দিয়ে যদি ফুঁ দিয়ে সেই আগুন নিভানোর চেষ্টা করা হয়, তাতে আগুন বাড়ে বৈ কমে না। মাল্টিমিডিয়া মোবাইলগুলোতে ছেলেদের হাতে হাতে যে পর্ণোগ্রাফি ঘুরছে, সেগুলো কি ইভটিজিংকে উৎসাহিত করে না? অবাধে অ্যাকসেস পাওয়া ইংলিশ মুভি আর হিন্দি মুভির অশ্লীল দৃশ্যগুলো কি ছেলেদের মনকে কুৎসিত করে তোলে না? তখন তারা একটা মেয়েকে দেখলে কীভাবে ভালো চিন্তা করবে? সমাজটা চেঞ্জ হতে হবে। মানুষের মূল্যবোধে পরিবর্তন আসতে হবে। নতুবা এই সমাজ ধ্বংসের মুখে। http://nure-alam.blogspot.com/2010/08/blog-post_21.html |
|

. একটা নিয়ম ও আমাদের সবারই জানা সব সময় ছেলেদের প্রস্তাব প্রেরন করতে হয় । হয় তা বিয়ের জন্য কিংবা পিরিতের জন্য



