|
|
 |
প্রধান পাতা
|
লিখেছেন রিজভী
|
|
মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর 2008 |
গত বছরের এই দিনেও বিশ্বাস হতে মন কিছুতেই চায়ছিলো না যে, সঞ্জীবদাকে হারাতে হবে! তাই গত বছরের ১৭ নভেম্বর সামহোয়ারইনের কয়েকটি পোস্টে যখন বলা হলো সঞ্জীবদা আর আমাদের মাঝে নেই, তখন প্রবল আপত্তি তুলে ছিলাম। নিউজ আপডেট দিয়ে বিকেলে সবাইকে আশ্বস্ত করলাম যে, দাদা এখনও আমাদের ছেড়ে যান নি।
সন্ধ্যার মধ্যেই সকল কাজ শেষ হয়ে যায় আমার। কিন্তু সেদিন ২য় এডিশন ছাড়া পর্যন্ত মধ্য রাত অবধি অফিসে থেকে বিভিন্ন ভাবে দাদার খোঁজ রাখার চেষ্টা করেছি ও ব্লগে যতটা সম্ভব আপডেট দেবার চেষ্টা করেছি।
পরের দিন ১৮ নভেম্বর বাংলাদেশ ইনফো তো খবরই দিয়ে দিলো যে, সঞ্জীবদা মারা গেছেন! অথচ বিকেলে যখন রাগ করেই পোস্টটা দিলাম যে, সঞ্জীবদা এখন বেঁচে আছেন, তখন শুধু আমি কেন, সকলেই মনে প্রাণে চাইছিলেন সঞ্জীবদা আবার যেনো আমাদের সবার মাঝে আবারো ফিরে আসেন। অবশ্য ডাক্তার এর আগেই তাকে কিনিক্যালি ডেড ঘোষণা করেছিলেন। মাত্র ১% এ থেকে সারভাইব করে। মিরাকল ব্যাপারটার প্রতি অনেকেই আস্থা রাখেন না। কিন্তু সঞ্জীবদার ফিরে আসার মতন সেদিনের কোন মিরাকল ঘটনাটি সকলেই যেন মনে প্রাণে চাইছিলেন! 
অথচ পরের দিন ১৯ নভেম্বর আমি আর সেই আগের মতন জোর নিয়ে বলতে পারছিলাম না যে, ‘ভুল তথ্য দেন কেন, সঞ্জীবদা এখনও বেচে আছেন!’ 
কারণ ততণে সঞ্জীবদা আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। 
********************************************************************
কত স্মৃতি জড়িয়ে আছে সঞ্জীবদার সঙ্গে আমাদের। সেটি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যেভাবেই হোক না কেন। সঞ্জীবদাকে কৃতজ্ঞতা জানানোর কথাগুলো ব্লগেই কেবল থেকে গেলো। তার অসামান্য গায়কী প্রতিভা দিয়ে এখন তিনি বেচে আছেন। ক্ষণজন্মা হয়ে যে ক'টি গানই তিনি গেয়েছেন সকলেরই হৃদয় ছুয়ে গেছে সেগুলো। সঞ্জীবদার সবচেয়ে কাছের বাপ্পা মজুমদারও তার লেখাতেও জানিয়ে ছিলেন সঞ্জীবদার প্রতি তার অপরিসীম ভালোবাসা আর বিনয়।
কিন্তু সবই তো অতীত। 
********************************************************************
একটি বছর চলে গেছে। সঞ্জীবদাকে মনে করার সময় কি তার কাছের লোকদের আর মনে আছে? 
পার্থ বড়ুয়া আর বাপ্পা মজুমদার, সঞ্জীবদার স্মরণে যুগ্মভাবে একটি অ্যালবাম করার ঘোষণা দিয়েছিলো এক বছর আগে। অথচ একটি বছরেও সেই প্রতিশ্রুতির কোন সুরাহা হলো না! 
সঞ্জীবদার একমাত্র কন্যা কিংবদন্তীর জন্য এতো বড় মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রির কেউ কি এখন পর্যন্ত কিছু করতে পেরেছে? 
মিউজিশিয়ান প্রিন্স মাহমুদ গত সপ্তাহে বেশ আক্ষেপ করেই বলছিলেন যে, সঞ্জীবদার গান এখন এফএম রেডিও বা চ্যানেলগুলোতে প্রচারিত হয়। কিন্তু এর ন্যূনতম রয়ালিটিও কি কিংবদন্তীর পাওয়ার অধিকার নেই? সঞ্জীবদার কাছের মানুষরা কি পারে না কিংবদস্তী জন্য কিছু উদ্যোগ নিতে? নাকি বছরের এই একটি দিনেই সঞ্জীবদাকে স্মরণ করবে কেবল? 
আগামীকাল দলছুট ব্যান্ড ও জি সিরিজ সঞ্জীব চৌধুরীকে নিয়ে এক স্মরণসভার আয়োজন করেছে। এই আয়োজনে সঞ্জীব চৌধুরীর লেখা ‘টুকরো কথা’ গানটি নিয়ে একটি সিডিও প্রকাশ করা হবে। এই অ্যালবামটিতে স্থান পেয়েছে বাপ্পার একটিই গান। বাণিজ্যিক ব্যাপারের বাইরেও কি সত্যিকারের কোন উদ্যোগ নিয়ে সঞ্জীবদাকে স্মরণ করার কোন পথ কি এদের জানা নেই? 
********************************************************************
সঞ্জীবদা আজ নেই কিন্তু রয়ে গেছে কেবল তার গানগুলো আর তার মেয়ে কিংবদন্তী। এই দুটোকেই রক্ষার কোন উপায় কি এইসব মিডিয়া নিয়ন্ত্রকদের জানা নেই?  মন্তব্যসমূহ (11) | পছন্দের তালিকায় যুক্ত কর (1) | পড়া হয়েছে: 170 |
|
বিস্তারিত ...
|
|
|
লিখেছেন রনক
|
|
সোমবার, ১৭ নভেম্বর 2008 |
|
এক.
'পুঁজিবাদী সমাজের সবচেয়ে বড় ও জনপ্রিয় কুসংস্কারের নাম প্রেম।' না, প্রিয় পাঠক; চোখ কটমট করে তাকানোর কোন কারণ নেই। এত বড় কথা বলার মতো জ্ঞান-গরিমা অথবা কুসাহস কোনোটাই আমার নেই। কথাটা প্রয়াত ড. হুমায়ুন আজাদের। আমি কথাটা বিশ্বাস করি। আমি জানি, কেউ কারো জন্য খারাপ থাকে না। কিন্তু হঠাৎ কাউকে 'আই লাভ ইউ' বলার অপরাধে যেমন চটাস করে চড় খেতে হয় তেমনি প্রেম-ভালোবাসা বিষয়ক এরকম কিছু সত্য বলার অপরাধে গণধোলাই খাওয়ার সম্ভাবনা ও প্রচুর। আর নানা ধরনের অপবাদ তো আছেই। শালায় ছ্যাঁকা খাইছে, জীবনে ভালোবাসা পায় নাই পিরিতের কাঙাল, বউ ভালো না-এরকম হাজার অপবাদ শুনতে শুনতে নিজেকে কূলহারা কলঙ্কবাজ মনে হবে। তবু প্রশ্ন থেকে যায়, ভালোবাসার নামে এখন যা হচ্ছে তা আসলে কী? এক মেয়ে কাস্টমার দোকান থেকে-কেনা পোশাক ফেরত নিয়ে এসেছে। তার অভিযোগ, সবাই ছিঃ ছিঃ করছে, বলছে তাকে নাকি ভীষণ বাজে দেখাচ্ছে। তখন দোকানি হেসে বলল-ম্যাডাম আপনিতো লেটেস্ট ফ্যাশনের ড্রেস চেয়েছিলেন। ভুলে যাচ্ছেন কেন, বাজে দেখানোটাই এখনকার বাজার চলতি লেটেস্ট ফ্যাশন! স্বভাতই প্রশ্ন জাগে, ভালোবাসার নামে ভালোবাসা না থাকাটাই কি এখনকার বাজার চলতি লেটেস্ট ফ্যাশন?
দুই.
প্রয়াত করি ত্রিদিব দস্তিদারের কবিতার বইয়ের নাম ছিল 'ভালোবাসতে ভালোবাসতে ফতুর করে দেব'। কবি কাউকে ফতুর করতে পেরেছিলেন কিনা তা আমাদের হার্ডডিস্কে নেই। তবে প্রাইমারি স্কুল-হাইস্কুল-কলেজ কিংবা ভার্সিটি লাইফে যত প্রেমের ডাউনলোড আমার চোখে পড়েছে, সব ক্ষেত্রেই দেখেছি-কেবল ছেলেরাই ভালোবাসতে বাসতে ফতুর হয়ে গেছে, মেয়েরা নয়! তাই কবিতার বইয়ের নাম হওয়ার দরকার ছিল 'ভালোবাসতে ভালোবাসতে ফতুর হয়ে গেলাম'। যেমন ফিট সেই বিখ্যাত কথা-'ভালোবাসা মোরে ভিখারি করেছে তোমারে করেছে রানী...।' ফতুর আর ভিখারী না হয়ে কোনো উপায় আছে? ভালোবাসার সুগভীর মাইনকা চিপায় কতকিছু যে আটে তার লিস্টি কয়জন জানে? প্রেমিকার আলতা স্নো-পাউডার-লিপস্টিক-নেইল পলিশ-ড্রেস আইব্রু-সবই ভালোবাসাকে জোগাড় করতে হয়। মোবাইলে টাকা হেঁচকি লোড করতে হয়। নিয়মিত গিফটের নামে বাবার পকেট কাটতে হয়। লাল গোলাপ দিতে হয় আর ডেটিংয়ে পকেট কাটার ব্যাপারটা তো আছেই। সম্পূর্ণ নিজ দায়িত্ব চায়নিজে নিয়ে যেতে হয় আবার দাবি-দাওয়া মতো প্রেমিকাকে নানান জিনিসপত্র খরিদও করে দিতে হয়। সবকিছুই করতে হয় প্রাণের ভালোবাসার মানুষ মানে প্রেমিক সাহেবকে। ভাবখানা এই যে, প্রেমিকা কেবল চাইবে আর প্রেমিক কেবলই দেবে। কিন্তু কীভাবে কোথা থেকে দেবে তা ভাবার মানুষ নেই। সবকিছুর চাপে স্বয়ং প্রেমিক মশাইর ভালোবাসাই উচ্ছেদ হওয়ার জোগাড়। প্রেমিকাদের চাহিদার বুলডোজারের চাপে প্রেমিকদের সবার প্রাণ যায় যায় অবস্থ। মর্ত্যরে মদনদের ওপর মর্ত্যে বসবাসরত স্বর্গের অন্সরীরা অবিরাম চালাচ্ছে বুলডোজার। তাদের বুলডোজার কবলিত হয়ে ভালোবাসা এখন হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসাধীন। দিন কাটছে, অনেক কিছুই বদলে যাচ্ছে। আর ভালোবাসা আস্তে আস্তে পরিণত হচ্ছে উত্তরাধুনিক কুসংস্কারে...!
তিন.
এক পরীক্ষার ইন্টারভিউতে প্রার্থীকে প্রশ্ন করা হলো-দেখুন আমরা অফিসের পরিচ্ছন্নতার দিকে খুব নজর রাখি। আচ্ছা রুমে ঢোকার আগে আপনি ঘরের পাপোশে আপনার পা মুছে এসেছেন তো? তখন প্রার্থী জবাব দিল-জ্বি স্যার, অবশ্যই! তখন ইন্টারভিউ বোর্ডের সদস্য বলল-খুব ভালো কথা; কিন্তু লক্ষ্য করে দেখুন আমাদের রুমে অথবা রুমের বাইরে কোথাও কোনো পাপোশই নেই। ভালোবাসার ব্যাপারটিও এমন অদৃশ্য ধোঁয়াটে জটিল ও যাতনাময়। যত বিচার-বিশ্লেষনই করা হোক না কেন ফলাফল ওই একই-ভিখারি ফতুর নয়তো ওই প্রার্থীর মতো ফেল মারা। আর সবকিছুর পরও একবার যদি ভালোবাসা নামক কিছু একটার কবলে পড়ে যায়, তাহলে কিছুকাল পরেই বোঝা যাবে ভালোবাসা আসলে প্রত্যাশা আর অপ্রাপ্তির বুলডোজার ছাড়া কিছুই নয়।
মন্তব্যসমূহ (7) | পছন্দের তালিকায় যুক্ত কর (1) | পড়া হয়েছে: 158 |
|
|
লিখেছেন সজীব
|
|
রবিবার, ১৬ নভেম্বর 2008 |
জার্নালিজমে প্রচুর আগ্রহ থাকার বদৌলতে দৈনিক পত্রিকার আইটি বিভাগে
কন্ট্রিবিউটরের কাজ নিয়েছি। সেই আইটির কাজেই কিছুদিন আগে নরসিংদী যেতে
হয়েছিল। বাংলাদেশ টেলিসেন্টার নেটওয়ার্ক (বিটিএন) এর উদ্যোগে গ্রামবাংলার
প্রত্যন্ত অঞ্চলে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির কাজ সরেজমিন পরিদর্শনে
কয়েকজন জার্নালিস্টকে ঢাকা থেকে নরসিংদী নেয়া হয়। ভাগ্যক্রমে সেই ট্যুরে
আমিও যাই। প্রথমবারের মতো সাংবাদিকের বেশে কোথাও যাওয়া..সত্যিই অন্যরকম এক
অনুভূতি। নরসিংদী ঢাকার কাছেই হলেও সেই অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা ছিল মনে রাখার
মত। তবে গতকাল একই পরিদর্শনের ধারাবাহিকতায় নোয়াখালী গেলাম। আগে কখনো
নোয়াখালী যাইনি তাই গতকালের অভিজ্ঞতাটা ছিল ভিন্ন।
জাতিসংঘের অফিসের সামনে সকাল পৌনে সাতটায় পৌঁছি। সেখানে ইউএনডিপি'তে
কর্মরত এক অফিসারের সঙ্গে আমাদের কথা হয়। সোয়া সাতটার দিকে অর্গানাইজার ও
বিটিএন প্রোগ্রাম অফিসার এডওয়ার্ড ভাই আসেন এবং তার কিছুক্ষণ পর এসি
মাইক্রোবাসটি আসে। যাত্রীসংখ্যা ছিল অত্যন্ত নগণ্য। প্রথম আলোর আরাফাত
শাহরিয়ার ভাই ও যায়যায়দিনের আমি। নোয়াখালীর উদ্দেশ্যে ঢাকার আইডিবি'র
সামনে থেকে রওনা হই সকাল সাড়ে সাতটার দিকে। মাঝখানের মেঘনা সেতুতে মেরামত
কাজ চলমান থাকায় কুমিল্লা ও ব্রাক্ষ্মনবাড়ীয়া ঘুরে যেতে হয়। অবশ্য এতে
লাভই হয়েছে। অসাধারণ সব নৈসর্গিক দৃশ্য উপভোগ করি ব্রাক্ষ্মণবাড়ীয়ার
পথগুলোতে। বিশেষ করে দুইধারে উঁচু পাহাড়ী টিলার মধ্য দিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা
পথ অতিক্রমের অভিজ্ঞতা ভোলার মতো না। এক ঘন্টার রাস্তা কয়েকঘন্টা লাগিয়ে
তারপর বিকাল তিনটার দিকে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীর জয়াগ ইউনিয়নে অবস্থিত
গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের সহায়তায় চলমান পল্লীতথ্য কেন্দ্রে পৌঁছি। সেখানে
দেখি গ্রামবাংলার তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের কাছে তথ্য ও প্রযুক্তিভিত্তিক
সেবা পৌঁছে দেবার প্রশংসনীয় এক উদ্যোগ। সবশ্রেণীর সকল স্তরের মানুষের কাছে
প্রযুক্তির সেবা ও তথ্য পৌঁছে দেবার অসাধারণ এ উদ্যোগ দেখে আমরা সবাই
অভিভূত হলাম। মন্তব্যসমূহ (10) | পছন্দের তালিকায় যুক্ত কর (0) | পড়া হয়েছে: 170 |
|
বিস্তারিত ...
|
|
|
লিখেছেন রনক
|
|
শনিবার, ১৫ নভেম্বর 2008 |
লাইফ ইজ সিগারেট লেখার কারনে ধূমপানে উৎসাহ প্রদানের অভিযোগে আমাকে কেউ অভিযুক্ত করবেন না প্লীজ। আর করলেও আমাকে নয়। কারন এই দর্শনটি আমার এক 'মিনি' দার্শনিক বন্ধুর। তাকে মিনি দার্শনিক বলার কারন হলো তার দর্শন প্রায় প্রতিদিনই কম-বেশি পরিবর্তন হয়। যদিও পরিবর্তন নিজে ছাড়া পৃথিবীতে আর কিছুই অপরিবর্তনীয় নয়, তবুও বারংবার দর্শন পরিবর্তনটাকে বোধ করি খোদ দার্শনিকেরাও ভালো চোখে দেখেন না। আমার সেই বন্ধু একসময় খুব বলতো- 'লাইফ ইজ রেইস'। তখন সে ব্যাপক রিক্স নিয়ে সুন্দরী এক মেয়ের সাথে চুটিয়ে প্রেম করে যাচ্ছিল। এই প্রেমে যখন ভাঙ্গন শুরু হলো তখন বন্ধুটি বলতে শুরু করলো- 'লাইফ ইজ পেইন'। সম্প্রতি তার দর্শন আবারো বদলে গেছে। এখন সে বলে বেড়াচ্ছে- 'লাইফ ইজ সিগারেট'। আমার বন্ধুটির ভালোবাসার কাহিনী বাংলা সিনেমার কাহিনীকেও হার মানায়। প্রথমবার না দেখেই এক মেয়ের সাথে ম্যারাথন প্রেম। এর মধ্যে অবশ্য দেখাদেখির পার্টটা চুকে গেছে। তবে ট্র্যাজিডির বিষয় হলো সুদীর্ঘ সাড়ে চার বছরের ম্যারাথন প্রেম শেষে বন্ধুটি আবিষ্কার করলো তার আদরের প্রেমিকাটি ঘোড়া বেঁধে হাতি খুঁজছে! মানে হলো ঐ মেয়ে আমার বন্ধুকে যে আশা দিয়েছে তার এক প্রবাসী ফুপাতো ভাইকেও একই আশা দিয়েছে। অগত্যা কী আর করা? সবাই ছ্যাঁকা খায় আর আমার সেই বন্ধুটি নিজেই ছ্যাঁকা নিল। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য মতে- বন্ধুর সেই প্রেমিকাটি বাসা থেকে পালিয়ে সেই ফুপাতো ভাইয়ের হাত ধরে একেবারে কাতার পাড়ি জমিয়েছে! বলাবাহুল্য আমার দার্শনিক বন্ধু ঐ মেয়ের কাছ থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে ব্যাপক দুরদর্শীতার প্রমান দিয়েছিল। কিন্তু ভুল ছিল অন্যখানে। প্রথম প্রেমকে প্রবাসী এক পাবলিকের হাতে জলাঞ্জলী দেয়ার পর আমার বন্ধু ঐ মেয়েরই সবচেয়ে কাছের বান্ধবীর দিকে নজর দিল। বলা বাহুল্য ফোনে গ্যাজানোর মাত্র পনের দিনের মাথায় ঐ মেয়েকেও পটিয়ে ফেলতে সমর্থ হয়েছিল আমার সেই বন্ধুটি। বন্ধুর মেয়ে পটানোর অমায়িক ক্যারিশমা দেখে আগের প্রেমিকাও ফিরে আসতে চেয়েছিল। কিন্তু ততক্ষণে বন্ধুটি তার নতুন প্রেমিকার প্রেমে মজে গিয়েছিল। স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে তাহলে লাইফ ইজ সিগারেট হলো কী করে? হবে না? আগামী সপ্তাহেই যে বন্ধুর দ্বিতীয় প্রেমিকার বিয়ে!
বন্ধুটি অবশ্য এখন ভালোবাসার প্রকৃত দর্শন আবিষ্কারের দাবি করছে। অবশ্য তার এবারের দর্শনটি আমারও ভালো লেগেছে। আমিও সদ্য ছ্যাঁকা নিলাম কিনা! সেদিকে নাইবা গেলাম। নতুন দর্শনটি হলো- 'পৃথিবীতে ভালোবাসা বলতে কিছু নেই। ভালোবাসা নামে যা কিছু আছে তার সবই আসলে মোহ। প্রকৃত অর্থে সব ধরনের ভালোবাসাই কোন না কোন প্রকার মোহাবদ্ধতা।' এই মতের সাথে কারো দ্বিমত থাকতে পারে। তবে এর ব্যাখ্যাটি কিন্তু মোটেও অগ্রহনযোগ্য নয়। ভালোবাসা মানে মোহ। কিন্তু কিসের মোহ? একেক জনের একেক রকম মোহ। কারো টাকার মোহ- কারো শারিরীক মোহ-কারো টাইম পাস করার মোহ- কারো বিয়ের মোহ... এরকম মোহের কী আর শেষ আছে? কেউ কেউ প্রশ্ন করতে পারেন তাহলে বাবা-মা, ভাই-বোনের প্রতি ভালোবাসা সেটা কী? সেটাও মোহ। সেই মোহটা হলো রক্তের মোহ। তাই ভালোবাসা আসলে মোহাবদ্ধতা ছাড়া আর কিছুই নয়। আর ভালোবাসার মোহাবদ্ধতা পোড়ায় বটে কিন্তু টিকে থাকে খুব কমই। আর সিগারেটের মোহাবদ্ধতা যেমন পোড়ায়, তেমনি পোড়ানোর তৃপ্তিও দেয়। একারনেই কেউ কেউ বলে সিগারেট হচ্ছে দেশ ও জাতির শত্রূ তাই একে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে নিঃশেষ করে দিচ্ছি। সবচেয়ে বড় কথা হলো সিগারেট কাউকে মৃত্যু পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার আগে কখনোই ছাড়ে না!
মন্তব্যসমূহ (13) | পছন্দের তালিকায় যুক্ত কর (0) | পড়া হয়েছে: 187 |
|
বিস্তারিত ...
|
|
|
লিখেছেন সাইফ
|
|
সোমবার, ২৩ জুন 2008 |
শুরুতেই বলে নি আমার লেখাটা সবার ভাল লাগবে না। যদিও কথা গুলো আমার না তবুও কথা গুলো বলা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। প্যাঁচাল বাদ দিয়ে লিখা শুরু করি।
শিশু কাদেরকে বলা হয়? বাংলাদেশের এবং জাতিসংঘের হিসাব মতে ১৮ বছরের কম বয়সী সব মানুষই শিশু। আমার আজকের লেখা শিশু বিষয়ক। শিশুদের মৌলিক অধিকার যা সরকার পূরন করতে পারে তা হল বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা। অর্থাৎ ৬-৭ বছরের প্রত্যেকটি শিশুকে বিদ্যালয়ে যেতে হবে। খুবই ভালো উদ্যোগ।
এবং এই রকম আরো একটি মহৎ উদ্যোগ হল শিশুশ্রম বন্ধ করা। অর্থাৎ ১৮ বছরের কম বয়সী এমন মানুষ এমন কোন কাজে যুক্ত থাকতে পারবে না যাতে শ্রমের বিনিময়ে অর্থ দেওয়া হয়। এতে করে কেবল মাত্র শিশুরা ঝুকিপূর্ন কাজে নিয়োজিত হবে না এবং তাদের প্রাথমিক শিক্ষা লাভের সুযোগ হবে।
কিন্তু কথা হচ্ছে যে সব শিশুরা কাজ করে অর্থ উপার্জন করে, তারা কি টাকা উড়ানোর জন্য বা মজা করার জন্য শ্রম দিচ্ছে , না তারা একবেলা খাবার খাওয়ার জন্য, পরিবারকে একটু সহযোগীতা করার জন্য শ্রম করে। অথচ সে দিকটা নিয়ে সরকারের নীতি নির্ধারকদের চিন্তা করার সময় কোথায়।
আরো একটা মজার কথা হচ্ছে, এসব গরিব পরিবারের শিশুদের টাকা উপার্জনের সব পথ বন্ধে সরকার ব্যস্ত হলেও বড় লোকের শিশুরা যে সখ করে “প্রতিভা বিকাশের” উদ্দেশ্য নানা প্রকার বিজ্ঞাপন চিত্র, নাটক -সিনেমায় অভিনয় করে সেটাকে আমরা শিশু শ্রম হিসেবে ভাবতেই নারাজ।
মানে যারা সখ করে শ্রম দেয় তারা টাকা পাক কিন্তু যারা বাঁচার দায়ে শ্রম দেয় তারা যাতে কিছুতেই টাকা উপার্জন করতে না পারে এবং বাঁচতে না পারে সে ব্যাপারে সরকার বেশ সচেতন।
পথের এই শিশু গুলোর প্রতি কারো কোন খেয়ালই নেই। ঢাকার এই ব্যাস্ত জীবনে তার সুযোগই বা কোথায়। কিন্তু, আমরা সবাই যদি একটু সামান্য একটু কেয়ার করি তাদের, তাহলে এরাই হবে আমাদের ভবিষ্যৎ। কেয়ার না করলেও এরাই আমাদের ভবিষ্যৎ কিন্তু কোন ধরনের ভবিষ্যৎ সেটা বলতে পারছি না। আশা করি নগর বালক এই শিশুগুলোর জন্য কোন এক পর্যায়ে কিছু না কিছু করবেই।
মন্তব্যসমূহ (4) | পছন্দের তালিকায় যুক্ত কর (1) | পড়া হয়েছে: 884 |
|
বিস্তারিত ...
|
|
|
লিখেছেন থেরাপীওয়ালা
|
|
মঙ্গলবার, ০২ সেপ্টেম্বর 2008 |
|
সময়ের বাস্তবতা মেনে নিয়ে প্রিয় বন্ধুদের কাছ থেকে অনেক দূরে আমার বসবাস। শেষ বিকেলের খেলার মাঠে কিংবা চারদিকে সবুজ কোন বিলের পাশে বসে দেশ, পরিবার, পড়ালেখা, খেলাধুলা, প্রেম-ভালবাসা ইত্যাদি নিয়ে তুমুল আড্ডাময় মধুর সেই দিনগুলো এখন সোনালী অতীত। এখনও তারুণ্যের উদ্দামতায় ভরে আছে মন। শুধু কাছে নেই প্রিয় বন্ধুরা। কেউ কলুষিত ছাত্ররাজনীতির শিকার হয়ে জীবনকে গুডবাই জানিয়ে চলে গেছে না ফেরার দেশে। কেউ বা টাকার পেছনে ছুটতে ছুটতে টাকা কামানের মেশিন হয়ে গেছে। আবার কেউ কেউ বেকারত্বের সাথে মিতালী করে বেঁচে থাকার জন্য বেঁচে আছে।
ধনী দেশের আধুনিক বিলাসী জীবনের সংস্পর্শে এসে লাইফ স্টাইল পাল্টে গেলেও পাল্টাতে পারিনি মন। অবসরের পুরোটা আড্ডা দিতে আমি আড্ডাবাজ প্রিয় বন্ধুদের অভাবে আড্ডার স্বাদ নিতে বেছে নিলাম ইন্টারনেট আড্ডা। পরিচিত হই ইয়াহু, হটমেইল,পালটক থেকে শুরু করে বাংলাদেশীদের দ্বারা পরিচালিত দেশী আড্ডা, সেতুবন্ধন, কথাচ্যাটসহ অনেকগুলো ভয়েস চ্যাট রুমের সাথে। প্রথমদিন ইয়াহু ভয়েস চ্যাট-এর বাংলাদেশী রুমের একটিতে ঢুকে অবাক হয়ে গেলাম। দেখলাম প্রায় ২০ জন একজেট হয়ে ২টি মেয়েকে সাবলীল ভংগিতে অশ্লীল ভাষায় গালি দিয়ে যাচ্ছে। প্রতি উত্তরে অসহায় (?) মেয়েগুলোও সমান তালে লড়ে যাচ্ছে। সবারই ভাবখানা এমন, জিততেই হবে। না হলে যে মান সম্মান থাকবেনা। প্রায় দুইমাস ইয়াহু, পালটকসহ দেশী বাংলা ভয়েস চ্যাট রুমগুলোর সবগুলোতে কয়েক ঘন্টা করে সময় দিলাম। নির্মল, শালীন, মজার আড্ডার পরিবেশের পরিবর্তে অনুভব করলাম অশিক্ষিত মানুষের চেয়ে শিক্ষিত মানুষই মিথ্যাচার গালাগালি, ভন্ডামি, ধর্মান্ধতায় এগিয়ে। আর এগিয়ে যাওয়া মানুষগুলোর ৮৫ ভাগই পুরুষ। গত একুশ ফেব্রুয়ারি আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবসেও ইন্টারনেটের বিভিন্ন চ্যাট রুমে শিক্ষিত আড্ডাবাজ মানুষগুলোর শালীনতা বিবর্জিত অশ্লীল ভাষায় আড্ডা দেওয়ার নগ্ন মানসিকতা দেখে আর কোন ভয়েস চ্যাটে যাইনি। অবসরে আড্ডাবাজ প্রিয় এই আমি এখন দেশ বিদেশের লেখকদের বই পড়ে সময় কাটাই। বইয়ের চরিত্রগুলোর মাঝে নিজেকে বিলীন করে অন্য রকম এক আড্ডায় শিহরিত হয়ে জানতে পারছি দেশ বিদেশের অনেককিছু।
বি দ্র্-ফিচারটি দৈনিক ইেওফাকে প্রকাশিত।এবং ফিচারটি আমি লিখেছিলাম।ব্যবধান শুধু এখানে আমি ছদ্মনামে লিখছি।
মন্তব্যসমূহ (45) | পছন্দের তালিকায় যুক্ত কর (1) | পড়া হয়েছে: 853 |
|
|
লিখেছেন সজীব
|
|
মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর 2008 |
|

অর্পিত গল্পটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক মস্তিষ্কের অবদানে রচিত একটি
কল্পকাহিনী মাত্র। বাস্তবের কোনকিছুর সাথে মিল রেখে গল্পটি রচিত হয়নি।
এরপরও পৃথিবীর হাজারও ঘটনা ও হাজারও চরিত্রের সাথে গল্পের চরিত্র বা ঘটনা
মিলে যেতেই পারে। সেক্ষেত্রে ঘটনাটি কাকতালীয় ঘটনা বলেই বিবেচিত হবে। -
লেখক
থ্রিল ও রোমান্সের সমন্বয়ে একটি গল্প, অর্পিত। পর্ব-১ পর্ব-২ পর্ব-৩ পর্ব-৪ শেষ পর্ব
মন্তব্যসমূহ (18) | পছন্দের তালিকায় যুক্ত কর (2) | পড়া হয়েছে: 727 |
|
|
লিখেছেন সনেট
|
|
রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর 2008 |
 আমাদের সাইট এর নাম নগরবালক , কিন্তু আমাদের মধ্যে প্রকৃত নগরেরবালক কয়জন???? আমার মতে আমরা শুধুই নামের দিক থেকেই নগরের বালক ...কেননা আমরা নগরে বাস করি তাই । অথচ প্রকৃত নগরের বালক হচ্ছে এরা । ছবিতেতো আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন। এদের জীবনের প্রত্যেকটা মূহুর্ত কাটে নগরের ধুলা-বালির সাথে ... মাঝে মাঝে এদের অবস্থার কথা চিনতা করলে বুক ফেটে কান্না আসে ,যা দেখানো সম্ভব না। উপরের ছবিটির ছেলেটার মুখটার দিকে তাকালে কি মনে হয়? কি অসহায় এদের জীবন। এদের কেউ হাত পাতে টাকার জন্য । কেউ আবার রাস্তায় নানা সামগ্রী বিক্রি করে। এদের কাছে নেই কোনো রোদ। নেই কোনো ঝড়-তুফান। সারাটাখন খালি গায়ে টইটই করে বেড়ায়। সেদিন গেলাম ধানমন্ডি পিজা হাটে। খেয়ে দেয়ে বাসায় ফেরার পথে বিজয় স্মরনীর সামনে জ্যামে পড়লাম। আমি ও আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু ছিলাম সিএনজি তে। এক পিচ্চি আসলো পপ কর্ন নিয়ে। এমনিতেই পিজা হাটে খেয়ে অবস্থা খারাপ হয়ে গেসে তখন তাই ঐটা কেনার ইচ্ছা হল না। কিন্তু আমি কখনোই ওদের কাছ থেকে কোনো কিসু কিনি না । টাকা এমনি দেই। যদিও একদিক থেকে জিনিসটা খারাপ .তবুও ওদের মুখে একটু হাসি দেখার জন্য ওদেরকে টাকা দেই । যাইহোক , ওকে আমি মাতরো ৫ টাকা দিলাম এমনি এমনি। ও এমন একটা হাসি দিলো। মনে হলো ও ঈদের চাদ দেকসে। রাস্তার জ্যামটা বেশি ছিলো তাই আমি ওদের সাথে মজা করার চিন্তা করলাম। আমি আমার মোবাইলটা বের করে ক্যামেরাটা অন করলাম আর ফ্লাশটা চালু করলাম। বললাম - তোমাদের সবার ছবি তুলবো। ওরা ৪ জন ছিলো । ৩ জন বলল ছবি তুলবে। ১ জন বলল তুলবে না। তাও আবার ওদের মধ্যে যেই ছেলেটা সবচেয়ে সুনদর লাগলো আমার কাসে ঐটাই বলল ছবি তুলবে না। সে কোনো অবস্থাতেই ছবি তলবে না। আর আমি নাছোড়বান্দা ওর ছবি কোনো অবস্থাতে না তুলে ছাড়বো না। বাকি ৩ টারে বললাম ধর এইটারে। ওরা খুব মজার সাথে ঐ টারে জাপতে ধরলো। আমি ফটাফট তুললাম ওদের পাসরাপাসরির কয়েকটা ছবি। এরপর এদের মধ্যে ১ জন বলল ও একটা একা ছবি তুলবে। আমি ও তুলে দিলাম ।ঠিক তখনিই জ্যাম ছেড়ে দিলো ..আমাকেও যেতে হল। তবে ওদের মুখে আমি তখন যেই সুখ দেখসি সেইটা কাউকে মুখে বলে কিংবা লিখে প্রকাশ করা যাবে না। আচ্ছা আমাদের বাংলাদেশে ১৫ কোটি মানুষের কারো চোখে কি পড়েনা এদের কে.... আমাদের চোখের সামনে কতগুলো জীবন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কেই কি নেই এদেরকে উৎসাহ দেয়ার জন্য , এদেরকে সাহায্য করার জন্য ????? আমরা কি পারি না এদের পাশে একটু দাড়াতে। পারি কি না একটু সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে??? আমাদের সবার একটু একটু সাহায্যই পারে এদের ভবিষ্যত কে সুন্দর করতে। আমার খুব ইচ্ছা নগরবালকের একটা ফান্ড খুলবো । যে ফান্ডের টাকা দিয়ে এদের মত অসহায় বাচ্চাদের কে সাহায্য করা হবে। জানিনা পরবো কিনা??? কিন্তু আমি আমার সাধ্যমত চেষ্টা করবো। আসুন , আমরা সবাই এদের পাশে দাড়াই। আমি জানি এই ব্লগের বেশীরভাগই টিএনেজার। আমি নিজেও টিনএজার । কিন্তু আমি বলব অন্তট্য এদের কে নিয়ে একটু ভাবুন যাতে ভবিষ্যতে ওদের জন্য কিসু করতে পারেন।
[ আরো ছবি দেখতে বিস্তারিততে ক্লিক করুন ] মন্তব্যসমূহ (17) | পছন্দের তালিকায় যুক্ত কর (0) | পড়া হয়েছে: 859 |
|
বিস্তারিত ...
|
|
|
লিখেছেন থেরাপীওয়ালা
|
|
রবিবার, ০৭ সেপ্টেম্বর 2008 |
|
মোবাইলের রিংটোন বেজে উঠতেই রিসিভ করে সালাম দিয়ে বললাম- বলুন রাশেদ ভাই।
-হাত থেকে সিগারেট ফেলে কথা বল। কতবার বলেছি সিগারেট খাবি না। ছয় রিয়াল দিয়ে সিগারেট কিনে নিজেরও ক্ষতি করছিলস মুসলমানদের রক্ত ঝরাতে মার্কিনীও তাদের দোসরদেরও সাহায্য করছিস।
- অবাক হয়ে বললাম,নিজের ক্ষতি করছি মানলাম। কিন্তু, মুসলমানদের রক্ত ঝরাতে সাহায্য করছি আমি!
-শুধু তুই না। তোর মত কোটি কোটি মুসলমান সিগারেটের পেছনে যে টাকা নষ্ট করছিস সে টাকাই অর্থনৈতিকভাবে আরও সবল হচ্ছে মার্কিনী ও তাদের দোসরেরা। আর সেই সবল অর্থনীতির বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার যাচ্ছে ইরাক, আফগানিস্তানে। বেওয়ারিশ কুকুর বিড়ালের মত প্রাণ হারাচ্ছে শিশু, নারী, পুরুষ। অকালে বিধবার সাজে সেজেছে হাজার হাজার তরুণী। ধর্ষণের শিকার হচ্ছে কিশোরী থেকে শুরু করে ৫০ বছরের মহিলা। টেলিভিশনের পর্দায় ইরাক, আফগানিস্তান, ফিলিস্তিনের নির্যাতনের চিত্র দেখলেই তোরা মার্কিনীদের ১৪গোষ্ঠী উদ্ধার করে আত্মতৃপ্তিতে ভুিগস। শুধু চোখ দিয়ে না দেখে মনের চোখ দিয়েও দেখ। অনুভব কর অস্ত্রহাতে মানুষরূপী নরপশুদের সামনে পাথর হাতে ইরাক, আফগানিস্তান, ফিলিস্তনের শিশু-কিশোরদের কথা। আরে ইরাক, আফগানিস্তান, ফিলিস্তিনের কথা ভাবতে না হয় না পারলি, নিজ দেশের দারিদ্র পীড়িত ক্ষুধার্ত মানুষগুলোর কথাও ভাবতে কি লজ্জা লাগে? প্রতিদিন ৬ রিয়াল বাংলাদেশী টাকায় ১০৮ টাকার সিগারেট খাচ্ছিস অথচ ৩৫ টাকা দিয়ে ১ কেজি চাল কেনার সমর্থ্য নেই লক্ষ লক্ষ মানুষের। দেখ, তথাকথিত বুদ্ধিজীবি আর সুশীল সমাজের সুশীল বাবুদের গোলটেবিল বৈঠকের আলোচনায় গা ভাসিয়ে দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিস না। মনের চোখ দিয়ে মানুষের যন্ত্রণা দেখে জাগ্রত করতে হবে বিবেককে। বন্ধুর হাত বাড়িয়ে দিতে হবে অসহায় মানুষদের দিকে। দেখবি দারিদ্র মুক্ত হবে আমাদের প্রিয় বাংলাদেশে। মুগ্ধ মননে রাশেদ ভাইয়ের কথা শুনতে শুনতে টেবিল থেকে সিগারেটের প্যাকেটটা তুলে নিয়ে কখন যে বাইরে ফেলে দিলাম টেরও পেলাম না। মনে মনে হেসে উঠে বললাম- তোমার ভাবনা দিয়ে আমার মনের যে চোখ আজ খুলে দিয়েছ তাতে তোমার ছোট ভাইটি আর কখনও হাতে সিগারেট নেবে না।
(((দৈনিক ইেওফাক এ প্রকাশিত। ফিচারটি আমারই লেখা।ব্যবধান শুধু এখানে ছদ্মনামে লিখছি...))) মন্তব্যসমূহ (13) | পছন্দের তালিকায় যুক্ত কর (0) | পড়া হয়েছে: 779 |
|
বিস্তারিত ...
|
|
|
| |